মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

পানাম নগর

পানাম নগরী সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর হতে আধা-কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি “হারানো নগরী” নামেও পরিচিত। পানাম নগরীর নির্মাণ শৈলী অপূর্ব এবং এর নগর পরিকল্পনা দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত। এটি মূলতঃ ছিল বঙ্গ অঞ্চলের তাঁত ব্যবসায়ীদের মূল কেন্দ্র বিন্দু ও আবাসস্থল। এ স্থান হতে ব্যবসায়ীগণ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁত ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বাংলার মসলিনসহ অন্যান্য তাঁত শিল্পের প্রচার, প্রসার ও ব্যবসায়ের তীর্থস্থান এ পানাম নগরী। প্রায় চারশত বছর আগে পানাম নগরীর গোড়াপত্তন হয় বলে জানা যায়। ধাপে ধাপে মোগল নির্মাণ শৈলীর সাথে বৃটিশ স্থাপত্য শৈলীর সংমিশ্রণে প্রায় চারশত বছরের পরিক্রমায় পানাম নগরী বর্তমান রূপলাভ করে। পানাম নগরীতে মোগল স্থাপত্য শৈলীর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।পানাম নগরীর নগর পরিকল্পনার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি লেক বা খাল দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং সুরক্ষিত গেইট দ্বারা আবদ্ধ। সন্ধ্যার পূর্বেই গেইটসমূহ বন্ধ করে দেয়া হতো। ফলে নগরীর অধিবাসীরা নিরাপদ জীবন যাপন করতো। পানাম নগরীতে মূলতঃ উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ব্যবসায়ী ও জমিদাররা বসবাস করতেন। এর পাশাপাশি রাজাদের, আমির ওমরাদের জন্য পানাম নগরী ও তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুণ কারুকাজ খচিত পাকা ইমারত। পানাম ও তার আশপাশকে ঘিরে পঞ্চদশ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জনজীবন ছিল। এখানে সরু রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠেছিল অট্টালিকা, সরাইখানা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুরঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর, খাজাঞ্চিখানা, টাকশাল, দরবার কক্ষ, গুপ্তপথ, প্রশস্ত দেয়াল, প্রমোদালয় ইত্যাদি। পানাম নগরীতে দেখা যায় ৪০০ বছরের পুরনো মঠবাড়ি। পানামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পঙ্ক্ষীরাজ খাল। এ খাল পানামের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো ছুঁয়ে পূর্বদিকে মেনিখালি নদ হয়ে মেঘনা নদীতে মিশেছে। পানামকে ঘিরে বিকশিত মসলিন ও কারুশিল্পের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল এ উপমহাদেশ ছাড়িয়ে পাশ্চাত্যে। বর্তমানে পানাম নগরীতে ৫মিটার প্রশস্থ ও ৬০০মিটার দীর্ঘ একটি সড়কের দুই পাশে একতলা, দোতলা ও তিনতলা দালান রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৫২টি ভবন। বর্তমানে নগরীটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। ঢাকা থেকে বাসযোগে সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড পৌঁছে রিক্সা/অটোরিক্সা যোগে পানাম নগরীতে যাওয়া যায়।